প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম। শায়েখ কেমন আছেন? আমি আপনার কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম গারমেন্টস ফেক্টরিতে মারচেন্ডাইজিং জব জায়েয কিনা? আপনি বলেছেন জায়েয। মারচেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্ট এর কাজগুলো হলো কাচামাল ক্রয় করে বায়ার থেকে কাচামালের অনুমোদন নিয়ে বায়ারের চাহিদানুযায়ী গার্মেন্টস বানিয়ে তা রপ্তানি করা পর্যন্ত সব কিছু তত্ত্বাবধায়ন করা। মনে করেন নতুন অর্ডার আসছে। সেখানে ১০স্টাইলের মধ্যে ২ স্টাইলের  পোশাকে প্রাণীর ছবি আছে। বায়ার আমাদেরকে সব পোশাকের ছবিগুলো মেইল এ পাঠিয়ে দেয়। আমারা এই পোশাকের ছবিগুলো প্রিন্ট করে যারা সেম্পল নিয়ে কাজ করে তাদেরকে দিয়ে আসি। অনেক সময় পোশাকের উপর প্রাণীর ছবির আলাদা ডিজাইন থাকে। ওই প্রাণীর ছবিগুলো পোশাকের উপর কিভাবে বসাতে হবে তা অনেক সময় সেম্পল নিয়ে যারা কাজ করে তাদের বুঝিয়ে দিতে হয়। ১। প্রানীর ছবি আছে এমন পোশাকের ছবি মেইল থেকে কাগজে প্রিন্ট দেওয়া এবং প্রাণীর ছবি নিয়ে কাজ করার কারণে কি সব আয় হারাম হয়ে যাবে? ২। আবার কাচামাল ক্রয় করার দায়িত্বও আমাদের। তাই আমরা যাদের থেকে কাচামাল ক্রয় করি তারা অনেক সময় বায়ারের অনুমোদিত কাচামালের হুবহু কাচামাল বানিয়ে দিতে পারে না। বিশেষ করে কিছু কিছু কাচামাল অনেক সময় বায়ার অনুমোদিত কাচামালের কালারের সাথে হুবহু কালার মিলাতে পারে না। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে হুবুহু কালার মিলানো কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের কে ওইসব কাচামাল দিয়ে গারমেন্টস বানাতে হয়। এই জন্য কি আমাদের সব আয় হারাম হয়ে যাবে? ৩। কাচামাল ক্রয়  করার সময় আমাদের কোম্পানিকে এলসি করতে হয়। এলসি করার আগে যাদের কাছ থেকে কাচামাল ক্রয় করি তারা একটি (PI) প্রফোরমা ইনভয়েস পাঠায় যেখানে কাচামাল বিক্রির বিবরণ দেওয়া থাকে সেখানে একটি জায়গায় লিখা থাকে  কোনো প্রকার সুদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে ক্রেতা কে (আমারা যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি সে প্রতিষ্ঠান) দিতে হবে। অথবা লিখা থাকে ১০% সুদ দিতে হবে। (আমি যতটুকু বুঝি এই কথাটি সাপ্লায়ার লিখে থাকে যাতে তাকে কোন প্রকার সুদ দিতে না হয় তার একটি নিশ্চয়তার জন্য) এখন আমরা ও ইনভয়েসটি প্রিন্ট করে LC করার জন্যে কমারশিয়েল ডিপার্টমেন্ট কে দিয়ে দিই। কমারশিয়াল ডিপার্টমেন্ট ব্যাংকিং সব কাজ করে। এই সব কাজ আমরা করিনা এখন আমার প্রশ্ন হলো সুদের কথা উল্লেক থাকার কারণে কি আমি সুদের সাক্ষি হয়ে যাচ্ছি। আমিতো এখানে কোন সুদের হিসাব করছিনা। সুদের কথাটিতো সাপ্লায়ার লিখছে এখানে আমারতো কিছু করার নেই। প্রফোরমা ইনভয়েস কিন্তু প্রতিদিন প্রিন্ট করতে হয় না। ধরুন মাসে ২,৩ বার প্রিন্ট করতে হয়। আর যদি সুদের কথা উল্লেখ থাকার  কারণে আমি যদি সুদের সাক্ষি  হয়ে যায় তাহলে আমার বেতনের সব টাকা হারাম হয়ে যাবে? ৪। আমার অনেক কাজ করতে হয় সে কাজগুলোর মধ্যে ১ টি ২ টি কাজ যদি হারাম হয়ে থাকে তাহলে কি বেতনের সব টাকা হারাম হয়ে যাবে নাকি কিছু টাকা হারাম হবে? ৫। যদি এই জবের সব আয় যদি হারাম হয়ে থাকে তাহলে আমি অন্য জব খুজবো। ৬। ধরুন আমি গাড়ি বানায় এমন কোম্পানিতে সেলস ডিপার্টমেন্টে জব নিলাম। এখন অই কোম্পানি যদি বিভিন্ন সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি চুক্তি করলো যে যারা তাদের থেকে গাড়ি ক্রয় করবে তাদেরকে যেন লোন দেয়। এখন আমি যাদের কাছে গাড়ি বিক্রি করবো তারা যদি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গাড়ি ক্রয় করে তাহলে কি আমার আয়টা হারাম হয়ে যাবে? ৭। অথবা যারা হারাম আয় করে কিংবা যাদের আয় সন্দেহজনক তাদের কাছে গাড়ি বিক্রি করলে কি আমার বেতনের টাকাটা হারাম হয়ে যাবে? ৮। আবার অনেক সময় গাড়ি কোম্পানি গুলো যাদের কাছে গাড়ি বিক্রি করবে তাদেরকে গাড়ি বিক্রির সময় ইন্সুরেন্সটাও করে দেয়। এখন আমি যদি সেলস এ চাকরি করি হয়তো আমাকে ইন্সুরেন্সের ডকুমেন্টগুলোও ওদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে এই জন্য আমার বেতনের টাকাটা কি হারাম হয়ে যাবে? আসলে আমি হালাল আয় নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। আমার কি করা উচিত আমি বুঝতে পারছিনা। দয়া করে আমাকে তাড়াতাড়ি উত্তর দিয়ে একটু চিন্তামুক্ত করুন।

উত্তর :

ওয়া আলাইকুমুস সালাম

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

১। না, সব আয় হারাম হবে না। তবে প্রাণীর ছবি প্রিন্ট দেওয়া থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকবেন।

২। না, হারাম হবে না। ব্যবসায়ীদের প্রচলনে যতটুকু পরিবর্তন সহনীয় ততটুকু পরিবর্তনে কোন সমস্যা নেই। তবে তাও বায়ারকে বলে দেওয়া ভালো।

৩। এতে কোন সমস্যা নেই।

৪। এটা গড়ে উত্তর দেওয়া মুশকিল। লেনদেনের বিস্তারিত স্বরূপ তুলে না ধরলে হুকুম বলা মুশকিল।

৫। জরুরী নয়। তবে আপনি ব্যক্তিগত অভিরুচির কারণে বা অন্তরের খটকার কারণে যদি অন্য পেশা গ্রহণ করতে চান তবে সেটা ভিন্ন কথা এবং তা উত্তম তো বটেই।

৬। না, হারাম হবে না। এর দায়দায়িত্ব গ্রাহকের উপর।

৭। এটা আপনার একটা ওয়াসওয়াসা। যারা গাড়ি ক্রয় করে তাদের অবস্থা কি বিক্রেতা জানে? তাদের মালের হালাল হারামের তাফসীল কি তাদের জানা থাকে? হ্যাঁ, কেউ যদি হারাম মাল নিয়ে গাড়ি ক্রয় করতে আসে তবে এটা জানার পর তার নিকট গাড়ি বিক্রি করা জায়েয হবে না। আর অসংখ্য গাড়ি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দুই একটা গাড়ির অবস্থা এমন হলেও আপনার বেতন হারাম হবে না।

৮। না, হারাম হবে না।

সূত্রসমূহঃ রদ্দুল মুহতার ৫/২৭২, নাইলুল আউতার ৫/১৫৪, মুফতী শফী (রহঃ) আহকামুল কুরআন ৩/৭৪, সূরা মায়েদা, আয়াত ২, জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৫৩, ফিকহী মাকালাত ৩/৩৯

598,072 total views, 349 views today