প্রশ্ন : ১। নামাযে বাংলা বলা নিষেধ। আর মনে মনে কোন বিষয় বাংলায় না বললেতো সেটা চিন্তা করা যায় না। তাহলে আমরা যে মনে মনে বাংলা বলি যেমন জাহান্নামের আযাবের কথা জান্নাতের নেয়ামত সমূহের কথা এটা তো এক প্রকার বলাই। এর দ্বারা কি নামাযে কোন ক্ষতি হয়? আর এই মনে মনে বাংলা বলাটাকে যদি চিন্তা বলি বা ভাবনা বলি তাহলে মনে মনে বাংলায় এই কথাগুলি বলা যাবে কিনা? যেমন রুকুর সময় এই কথা বলা যে আমি তোমার সামনেই মাথা ঝুকাচ্ছি সেজদার সময় এই কথা বলা যে আমি তোমার দয়া ও মেহেরবাণীর আশায় তোমার সামনে মাথা অবনত করছি এবং মনে মনে রুকু সিজদার তাসবীর বাংলা অর্থ বলা যাবে কিনা এবং কোরআন তেলাওয়াত এর বাংলা অর্থ মনে মনে বাংলায় বলা যাবে কিনা ২। কেও যদি নামাযে মনে মনে বাংলায় দুনিয়াবি পার্থনা করে তাহলে কি তার নামায ভেংগে যাবে? ৩। নামাযে মনে মনে বাংলায় দুনীয়াবি পার্থনা বাদে এবং যা মানুষের নিকট চাওয়া যায় তা বাদে অন্য কোন পার্থনা যেমন সুস্থতা বা আখিরাতের বিষয়ে কোনো কিছু চাওয়া যাবে কি?

উত্তর :

১। কথা তো তাকেই বলে যা মুখে বলা হয়। আর মনে যা আসে তা চিন্তা, কথা নয়। ফরজ নামাযে উচ্চস্বরে তিলাওয়াতের সময় তিলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। অনুরূপভাবে যখন একাকী নামায আদায় করা হয় তখনো মনোযোগের সাথে তিলাওয়াত করতে হবে। মনোযোগের সাথে উক্ত দুই অবস্থায় তিলাওয়াত শুনলে বা তিলাওয়াত করলে অন্য কোন চিন্তা করা সম্ভব হবে না। তবে অর্থ বুঝে থাকলে তার প্রতি ধ্যান খেয়াল রাখাই নামাযে মনযোগী হবার সর্বোত্তম পন্থা। কাজেই জান্নাতের আয়াতের সময় জান্নাতের আশা রাখা এবং জাহান্নামের আয়াতের সময় তার ভয়ে ভীত হওয়া ও (মনে মনে) পানাহ চাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। আর যখন ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে তিলাওয়াত করেন তখন সূরা ফাতেহা (মুখে উচ্চারণ ব্যতীত) মনে মনে আওড়াতে পারেন।
অনুরূপভাবে রুকু সিজদার সময় রুকু সিজদার তাসবীহের অর্থের প্রতি খেয়াল করাতে কোন সমস্যা নেই। বরং এটা আরো উত্তম।
সারকথা, নামাযে যখন যা পড়া হয় তার অর্থের প্রতি লক্ষ রাখাতে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না। বরং এটাই নিয়ম। তবে অন্য কোন খেয়াল করবে না। অন্য কোন খেয়াল করলে যদিও নামায নষ্ট হবে না, তবে নামাযের রূহ দুর্বল হবে এবং ছাওয়াব কমতে থাকবে।
২। না, নামায ভাঙবে না । তবে নামাযের রূহ দুর্বল হবে এবং ছাওয়াব কমে যাবে।
৩। হ্যাঁ, যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে একাকী নামাযের সময় যেন চাওয়ার কারনে কোন আমল তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্বিত না হয়।
তবে নামাযে একান্ত কোন কিছু চাইতে হলে উত্তম হল, নফল নামাযের সিজদায় বা শেষ বৈঠকে দুআয়ে মাছূরার পর কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত কোন দুআ করা।
সূত্রসমূহঃ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯০৪; জামে তিরমিজী, হাদীস নং ৩১২

596,444 total views, 77 views today