নেসাব দুই প্রকার। একটি যাকাত ফরজ হবার নেসাব অন্যটি কুরবানী ও ফেতরা ওয়াজিব হবার নেসাব। উভয় নেসাবের মালিক যাকাত গ্রহন করতে পারবে না। দ্বিতীয় নেসাব তথা কুরবানী ও ফেতরার নেসাব নির্ধারণ হয় প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ দ্বারা। তাই এই দ্বিতীয় নেসাব নির্ধারণ করতে হলে হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও প্রয়োজন অতিরিক্ত জিনিস এর ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন। যার দ্বারা কার উপরে কুরবানি, ফেতরা ও হজ্জ ফরজ সহজেই জানা যাবে। অথচ এ বাপ্যারে অধিকাংশ মানুষেরই স্পষ্ট ধারনা নেই। তাই এ ব্যাপারে কিঞ্চিত আলোকপাত করা প্রয়োজন মনে করছি।

মাসআলাঃ মানুষের জীপন যাপনে যা অত্যাবশ্যকীয় এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যা ব্যবহার আসে তাই তার হাজাতে আছলিয়া বা নিত্যপ্রয়োজন সম্পদ হিসেবে গন্য হবে। আর এটা ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন হয়ে থাকে।

মাসআলাঃ বসতবাড়ি, বাড়ির আসবাবপত্র, পরিধানের কাপড়, ব্যবহারের গাড়ি ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত হাড়ি-পাতিল, ডেগ ও বাসনপত্র হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের মধ্যে গন্য হয়।

মাসআলাঃ বড় বড় ডেগ, বড় বড় বিছানা ইত্যাদি যা দৈনন্দিন কাজে লাগে না বরং দু-এক বছরে কখনও অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয় তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হয় না।

মাসআলাঃ যে সকল আসবাবপত্র পুরো বছর প্রয়োজনে আসে না তা প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ। কাজেই মহিলারা আলমারিতে যে সকল কাপড় সাজিয়ে রাখে তা যদি মাঝে মধ্যে পরিধান করে অথবা অন্তত বছরে দু একবার পরিধান করে তবে তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে। অন্যথায় তা প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। অনুরুপভাবে কাপ-প্রিচ, চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি যদি সারা বছরে কখনও ব্যবহারে না আসে তবে তা প্রয়োজনতিরিক্ত হিসেবে গন্য হবে।

মাসআলাঃ কারো ৫০ বিঘা জায়গা রয়েছে। এতে চাষ করে যে ফসল হয় তা তার সংসার খরচে ব্যয় হয়ে যায়। তাহলে পুরো ৫০ বিঘা জমি তার নিত্যপ্রয়োজনীয়। পক্ষান্তরে কারো ১০ বিঘা জায়গা রয়েছে। যার ৮ বিঘার ফসলে তার সংসার চলে যায়। তাহলে ২ বিঘা তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ হবে।

মাসআলাঃ কারো ১০টি বাড়ি রয়েছে। যার ভাড়া দ্বারা সে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসার বড় হবার কারনে পুরো টাকা ব্যয় হয়ে যায়, কোন অংশ বাকি থাকে না। তবে এটা তার হাজাতে আছলিয়ার মধ্য গন্য হবে। পক্ষান্তরে কারো দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার একটির ভাড়া দ্বারা তার সংসার ভালভাবে চলে যায়। তবে অন্য ফ্ল্যাটটি তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত হবে।

মাসআলাঃ পেশাজীবীদের পেশার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী হাজাতে আছলিয়ার মধ্য গন্য। যেমন- ট্রাক্টর, লাঙ্গল ইত্যাদি।

মাসআলাঃ টেলিভিশন প্রয়োজনতিরিক্ত জিনিষ।

মাসআলাঃ আলেম ও তালেবে এলেমের কিতাবাদি হাজাতে আছলিয়ার মধ্য গন্য।

মাসআলাঃ কাজের জন্য চাকর নওকর ও ব্যবহারের যানবাহন ( যা প্রয়োজনে একাধিক হতে পারে) হাজাতে আছলিয়ার মধ্য গন্য।

মোটকথা যা কোন ব্যক্তির জীবন যাপন ও জীবিকা নির্বাহে ব্যবহৃত তাই তার হাজাতে আছলিয়ার মধ্য গন্য। আর যা তার জীবিকা নির্বাহে কাজে আসে না বা যা ছাড়াও তার সংসার ভালভাবে চলে যায় বা যা তার দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারে আসে না এমনকি সারা বছরে কখনও প্রয়োজনে আসে না তাই তার প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ। উক্ত সম্পদ যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যমান সমতুল্য হয় তবে তার উপর ছদকায়ে ফিতর ও কুরবানী ওয়াজিব। আর উক্ত প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ যদি এ পরিমান হয় যে, তা দ্বারা পরিবারের খরচসহ হজ্জে যাওয়া যায় তবে তার উপর হজ্জও ফরজ হবে। কাজেই উপরে উল্লেখিত মাসআলাসমূহে যদি প্রয়োজনতিরিক্ত আসবাবপত্র বা পরিধানের কাপড় বা রান্নার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী অথবা উক্ত দুই বিঘা জমি অথবা উক্ত একটি ফ্ল্যাট এর মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান হয় তবে তার উপর কুরবানী ও ফেতরা ওয়াজিব হবে। আর যদি উল্লেখিত প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ্গুলো বিক্রি করে হজ্জে যাওয়া সম্ভব হয় তবে তার উপর হজ্জ ফরজ হবে। আর এমন ব্যক্তির জন্য যাকাত বা অন্য কোন ছদকায়ে ওয়াজিবা (মান্নত, কাফফারার মাল, ফেতরা, কুরবানীর চামড়ার পয়সা ইত্যাদি ) গ্রহন করা জায়েয নয়।

 232 total views,  1 views today