প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম ১। কুরআন ও হাদীসের আলোকে দৈনন্দিন কিছু আমল বলে দিলে খুব উপকৃত হতাম। ২। দুনিয়ায় দালানকোঠা দিলে আখিরাতে তার কিছু নেই এ রকম কোনো হাদীস আছে কি? ৩। একটানা ৪০ দিন ইমামের পিছনে প্রথম তাকবীরে নামায আদায় করলে তার জন্য জাহান্নাম হারাম এরকম কোনো হাদীস আছে কি? আর হাদীসে যদি থাকে তাহলে ৫ ওয়াক্ত নামাযই ইমামের পিছনে প্রথম তাকবীরে পড়তে হবে নাকি যে কোনো এক ওয়াক্ত নামায পড়লে হবে? ৪। মসজিদে দুনিয়াবি কথা বললে নেক আমলের কি ক্ষতি হয়? ৫। তাবলীগের লোকেরা একটা কথা বলে বৃহস্পতিবার আসর নামায থেকে শুক্রবার ফজর নামাজ পর্যন্ত কোনো মারকায মসজিদে কাটালে ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার নেকী পাওয়া এর কোনো সহীহ হাদীস আছে কি?

উত্তর :

ওয়া আলাইকুমুস সালাম
১। আপনি ফরজ নামায শেষে নিম্নলিখিত মাসনূন আমলগুলো করতে পারেন –
# প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর তিন বার ইস্তিগফার পড়া-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
(সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৩৬২;সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৩৩৬)
# নিম্নোক্ত দুআগুলো পড়া-
(ক) اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَام
(সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৩৬৩;সুনানে আবূ দাউদ,হাদীস নং ১৫১৪)
(খ) لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
(সহীহ বুখারী ,হাদীস নং ৬৩৩০;সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৬৬)

উপরোক্ত আমলগুলো ফরজ নামাযের পরেই করবে। এছাড়াও আরো কিছু মাসনূন আমল আছে যা সুন্নাত ও নফল থাকলে তার পরে অন্যথায় ফরজের পরেই পড়বে। (সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৩৬৩;সহীহ বুখারী,হাদীস নং ৮৪৯;ইলাউস সুনান ৩/১৮৮)
আমলগুলো এই-
# আয়াতুল কুরসী পড়া। (আস-সুনানুল কুবরা,নাসায়ী,হাদীস নং ৯৯২৮;শুআবুল ঈমান , বাইহাক্বী,হাদীস নং ২৩৯৫)
# তাসবীহে ফাতেমী পড়া। অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ,৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। (সুনানে নাসায়ী,হাদীস নং ১৩৪৮; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২১৪১১)
অন্য এক রেওয়ায়েত অনুযায়ী যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানল্লাহ,৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪বার আল্লাহু আকবার পড়ে নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে আল্লাহ তা’আলা তার গুনাহ সুমুদ্রের ফেনা পরিমান হলেও মাফ করে দিবেন। দুআটি এই-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
(সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৩৮০;সুনানে আবূ দাউদ,হাদীস নং ১৫০৬)
# একবার সূরা ফালাক্ব ও নাস পড়া। এর সাথে সূরা কাফিরুন ও ইখলাছ মিলিয়ে নেওয়া উত্তম। (সুনানে নাসায়ী,হাদীস নং ১৩৩৫;সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ২০০৪)
# ফজর ও মাগরিবে উপরোক্ত দুআগুলোর সাথে নিম্নোক্ত দুআ দুটি পড়বে-
ক। اللَّهُمَّ أَجِرْنِى مِنَ النَّارِ সাত বার পড়বে। (সুনানে আবূ দাউদ,হাদীস নং ৫০৮১;মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ১৮০৫৪)
খ। أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ তিনবার পড়ে বিসমিল্লাহ সহ সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়া। (সুনানে তিরমিজী,হাদীস নং ২৯২২;মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ২০৩৬)
এছাড়া দিনের শুরুতে সূরা ইয়াসীন, মাগরিবের পর সূরা ওয়াকিয়াহ এবং ইশার পর সূরা মুলক তিলাওয়াত করতে পারেন।
অনুরূপভাবে ইশরাক ও চাশতের নামায পড়তে পারেন। সূর্য উদয়ের আনুমানিক ১০ মিনিট পর থেকে ইশরাকের ওয়াক্ত শুরু হয়। দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ওয়াক্ত বাকি থাকে। তবে শুরুতে পড়া উত্তম। এ নামায সর্বনিম্ন দুই রাকাআত এবং সর্বোচ্চ চার রাকাআত পড়া যায়। ফজরের নামাযের পর সেই স্থানে বসে যিকির-আযকারে মশগুল থেকে সময় হয়ে গেলে ইশরাকের নামায আদায় করলে ছাওয়াব বেশি পাওয়া যায়। বাড়িতে গিয়ে বা কোন দুনিয়াবি কাজে মশগুল হয়েও এ নামায আদায় করা যায় তবে ছাওয়াব কিছুটা কম হয়। এ নামায আদায়ের দ্বারা একটি হজ ও একটি ওমরার ছাওয়াব পাওয়া যায়।
আর চাশতের নামাযের সময় ইশরাকের নামাযের পর থেকে নিয়ে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। তবে দিনের এক চতুর্থাংশ পার হবার পর ( মোটামুটি ৯/১০ টায়) এ নামায পড়া উত্তম। এ নামায সর্বনিম্ন দুই রাকাআত এবং সর্বোচ্চ বার রাকাআত পড়া যায়।- সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ৫৮৬; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১২৯১; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৯; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৪৬৫,৪৬৭।
২। না, নেই।
৩। হ্যাঁ, আছে।
قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من صلى لله أربعين يوما في جماعة يدرك التكبيرة الأولى كتبت له براءتان براءة من النار وبراءة من النفاق
অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য (টানা) চল্লিশ দিন তাকবীরে ঊলার সাথে জামাআতে নামায আদায় করবে তাকে দুটি মুক্তির পরওয়ানা দেওয়া হবে; জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং নেফাক থেকে মুক্তি।–সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ২৪১
উল্লেখ্য যে, এর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই জামাআতের সাথে আদায় করতে হবে।
৪। না, আমলের ক্ষতি তো হয় না। তবে মসজিদে ইবাদত বন্দেগী ছাড়া দুনিয়াবি কোন কাজের উদ্দেশ্য যাওয়া বা সেখানে এ ধরনের কোন কাজ করা কিংবা অনর্থক কোন কথাবার্তা বলা নাজায়েয। তবে মসজিদে ইবাদত বন্দেগীর উদ্দেশ্যে গিয়ে মসজিদের আদব ঠিক রেখে প্রয়োজনে জরুরী কিছু কথা-বার্তা বলতে কোন অসুবিধা নেই।–রদ্দুল মুহতার ১/৬৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২১
৫। আমি খুঁজে পাইনি।

 830,960 total views,  179 views today