প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আল্লাহর মেহেরবানীতে ভাল আছেন। জানতে চাওয়া, যে কোন দাওয়াতে যাওয়ার পরে খানা খাওয়ার পুর্বে দোআ করা এবং খানা শেষ করার পরে হাদিয়া গ্রহন করা যাবে কি না? দলীল সহ বিস্তারিত আলোচনা করতে হুজুরের যেন মর্জি হয়।

উত্তর :

ওয়া আলাইকুমুস সালাম
মেহমান যদি স্বেচ্ছায় মেযবানের জন্য বা তার আত্মীয় স্বজনের জন্য খায়ের ও বরকতের দুআ করে দেয় তবে তা হতে পারে। অনুরূপভাবে মেহমান উলামায়ে কেরাম বা বুজুর্গ হওয়ায় মেযবান বরকতের জন্য দুআ চায় আর মেযবান দুআ করে দেয় তাতেও কোন অসুবিধা নেই। এক্ষেত্রে খানা খাওয়ার পর হাদিয়া দিলেও তা গ্রহন করতে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি কোথাও দাওয়াত খাওয়ার পূর্বে দুআ করা জরুরী বা সুন্নাত মনে করা হয় তবে তা পরিত্যাজ্য।
আর যদি মৃত ব্যক্তির ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে দাওয়াত দেওয়া হয় তবে ঈছালে ছাওয়াবের পরে খানা খাওয়া বা হাদিয়া গ্রহন করা জায়েয হবে না। তবে কখনো যদি এমনিতেই খানার উদ্দেশ্যে দাওয়াত দেওয়া হয় আর উপস্থিত হওয়ার পরে মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ করা হয় (চাই মেযবানের বলার কারনে হোক বা মেহমান নিজেই করুক) সেক্ষেত্রেও খানা খাওয়া বা হাদিয়া গ্রহন করতে বাধা নেই।
সারকথা, মূল উদ্দেশ্য ঈছালে ছাওয়াব হলে খানা খাওয়া ও হাদিয়া গ্রহন করা কোনটিই জায়েয হবে না।–সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ৪১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৫৩৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫-৫৮; ইমদাদুল আহকাম ৩/৫১৭

 827,218 total views,  486 views today