প্রশ্ন : জনাব, আস-সালামু আলাইকুম। একটি মাসালা জানার জন্য বিনীত নিবেদন। আমি ২০০৭ সালে এ.আই.টি নামে একটি ফিড কোম্পানীতে চাকুরীতে যোগদান করি। শুরুতে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে এবং পরবর্তীতে আমাকে পারচেজ ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়। আমার কাজ ছিল বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানী থেকে সোসিং করে মালামাল ক্রয় করা। বিভিন্ন কোম্পানীর মধ্যে সৌদি আরবের একটি কোম্পানীকে আমি সোসিং করে পাই এবং বর্তমান পর্যন্ত ঐ কোম্পানীর সাথে ব্যবসা আছে। আমি ঐ সৌদি আরবের কোম্পানীর মালিককে এই প্রস্তাব দিয়ে রাখি যে, যদি বাংলাদেশে মার্কেট প্রসার করতে চায় তবে আমি তাহার বাংলাদেশের এজেন্ট/ইনডেনটর হিসেবে কাজ করতে চাই। যদি তিনি এই সুযোগ দেন তাহলে আমি এ.আই.টি থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে তাদের সাথে কাজ করতে চাই। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ঐ সৌদি আরবের কোম্পানীর মালিক বাংলাদেশে আসলে আমি আমার ইচ্ছা পুনঃব্যক্ত করি এবং সে বলে যে, দেশে ফিরে সে আমাকে জানাবে। সৌদি আরব ফিরে সে বলে যে, বাংলাদেশের এজেন্ট/ইনডেনটর আমি কাজ শুরু করতে পারি এবং বলে যে, তার হাতে কিছু অতিরিক্ত প্রডাক্টস আছে যা এখনই বাংলাদেশে বিক্রি করা দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে তার সাথে এই মৌখিক চুক্তি হয় যে, ২০১০ সালের মে মাস থেকে আমি কাজ শুরু করবো এবং সে আমাকে প্রতি মেঃ টন বিক্রয় বাবদ ৫ ডলার কমিশন প্রদান করবে। এমনকি তার কাছ থেকে এ.আই.টি যে পরিমান মাল ক্রয় করছে তার উপরও সে আমাকে ঐ হারে কমিশন প্রদান করবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ মার্কেট গোছানো হয়ে গেলে আমি চাকুরী ছেড়ে তার সাথে কাজ করবো। যেহেতু আমার ভুল হয় এই যে, আমি এ.আই.টি থেকে চাকুরী না ছেড়েই কাজ শুরু করি। আমার ইচ্ছা ছিল যে, দেখি কি পরিমান বিক্রয় হয় এবং তার উপর ভিত্তি করে কয়েক মাস পরে চাকুরী ছেড়ে দেব। আমি যে সৌদি আরবের এই কোম্পানীর সাথে কাজ করছি তা আমি আমার বর্তমান কোম্পানীকে জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জানাই জানাই করে ২০১০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত জানানো হয়ে উঠে নি। এরই মধ্যে এ.আই.টি কর্তৃপক্ষ অন্য কোনভাবে বিষয়টি জানতে পারে এবং আমাকে ডেকে বলে যে, আমি এইভাবে কাজ করতে পারি না। এ.আই.টি কর্তৃপক্ষ এর ধারনা ছিল যে, আমি হয়ত শুরু থেকেই (২০০৮ সাল থেকেই) এ.আই.টি এর ক্রয় পরিমানের উপর থেকে কমিশন নিয়ে আসছি। আমি তাদেরকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলি কিন্তু তারা আমার উপর চাপ প্রয়োগ করে যাতে আমি চাকুরী ছেড়ে দেই। এই পরিস্থিতিতে আমি বিষয়টি সৌদি আরবের ঐ কোম্পানীকে জানাই যে, আপনার সাথে হঠাৎ করে কাজ শুরু করতে গিয়ে এখন আমার চাকুরীটাই হঠাৎ করে চলে যাচ্ছে। তখন সে আমার পরিস্থিতে বিবেচনা করে আমাকে পুরাপুরি তার সাথে কাজ করতে বলে। এই সময় তার সাথে আমার নিম্ন বর্নিত চুক্তির ভিত্তিতে আমি কাজ শুরু করি। ১. প্রথম চুক্তির মেয়াদ হবে ২ বছর যা জুলাই ২০১০ সাল থেকে কার্যকর হবে। এই সময়ে আমার মাসিক বেতন হবে ৪০০ ডলার এবং এই সময়ে প্রতি মেঃ টন বিক্রয় বাবদ আমাকে ২ ডলার হারে কমিশন প্রদান করবে। এরই প্রেক্ষিতে তার সাথে কাজ শুরু করি এবং এ.আই.টি থেকে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই এবং এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোম্বর-২০১০ সালে রিজাইন লেটার দিই এবং ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে আমাকে তারা চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়। যদিও শেষের দিকে এ.আই.টি কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকুরীতে থাকার জন্যে অনুরোধ করে। ২. দুই বছর পর প্রথম চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সৌদি আরবের কোম্পানী আমার চুক্তি এই শর্তে নবায়ন করে যে, আমি এখন থেকে বেতন বাদে শুধু কমিশন পাবো এবং এ.আই.টি আর আমার একাউন্টে থাকবে না অর্থাৎ এ.আই.টি থেকে কোন কমিশন আমি আর পাবো না। দীর্ঘদিন পর আমার মনে প্রশ্ন জাগে যে, যেহেতু আমি এ.আই.টি এর প্রডাক্টস সোসিং করে মালামাল ক্রয় করার দায়িত্বে ছিলাম তাই এ.আই.টি থেকে চাকুরী কালিন সময়ে এমনকি চাকুরী ছাড়ার পরেও কমিশন নেয়া ঠিক হয়নি, এমনকি ইহা আমার জন্যে হালাল নয়। আমার মনের অনুশোচনা থেকেই আমি তাদের কাছে গিয়ে বিষয়টির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং চাকুরী কালিন সময়ে এ.আই.টি সহ অন্য কোম্পানী থেকে যত কমিশন পাই তা-সহ চাকুরী ছাড়ার পর যত কমিশন এ.আই.টি থেকে নিয়েছিলাম তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেই। এখন আমার মনে প্রশ্ন হলো (শরিয়া দৃষ্টিকোন থেকে) ১। এ.আই.টি কে না জানিয়ে সেখানে চাকুরীত অবস্থায় লোভের বশবর্তী হয়ে আমি যেভাবে সৌদি আরবের কোম্পানীর সাথে কাজ শুরু করেছিলাম এবং প্রথম চুক্তির পর চুক্তি নবায়ন হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাজ করছি, তাতে আমার এই কাজ এবং এর থেকে আয় হালাল হচ্ছে কিনা? ২। পরবর্তীতে এ.আই.টি কে টাকা ফেরত দিয়ে দেই, তাতে আমি দায়মুক্তি পেয়েছি কিনা? দয়া করে জানালে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে উপকৃত হবো।

উত্তর :

ওয়া আলাইকুমুস সালাম
প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আসলে প্রায় দুই মাস সাইটটি হ্যাক থাকা, দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসা খুলে যাওয়ায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়া ও আমার অসুস্থতা ইত্যাদি সবকিছু মিলে muftihusain.com এ বেশ কিছুদিন সময় দিতে পারিনি। এখন থেকে ইংশাআল্লাহ নিয়মিত সময় দিব।
১+২। আপনি এ.আই.টি তে চাকরিরত অবস্থায় এ.আই.টির পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে উক্ত সৌদি আরবের কোম্পানি থেকে যে কমিশন নিয়েছিলেন তা নেওয়া বৈধ হয়নি। কেননা এ.আই.টির পণ্য ক্রয় আপনার দায়িত্ব ছিল, যার বিপরীতে আপনি বেতন পেতেন। তবে উক্ত কমিশনের টাকা কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ায় আপনি দায়মুক্ত হয়ে গিয়েছেন। এখন শুধু আল্লাহ তাআলার নিকট খালেছভাবে তাওবা করাই যথেষ্ট।
আর এ.আই.টিতে চাকরিকালীন সময়ে এ.আই.টির ডিউটি সঠিকভাবে পালন করে অন্য কোন কোম্পানিতে উক্ত সৌদি আরবের পণ্য বিক্রি করে আপনি যে কমিশন পেয়েছিলেন তা আপনার জন্য বৈধ ছিল। অনুরূপভাবে এ.আই.টির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে এ.আই.টিতে উক্ত সৌদি আরবের কোম্পানির পণ্য বিক্রির বিপরীতে যে কমিশন পেয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে পাবেন তাও আপনার জন্য বৈধ। আর প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার বর্তমানের ইনকামও হালাল।–রদ্দুল মুহতার ৬/৬৩; মাবসূতে সারাখসী ১৫/১২৮, ১২৯

 833,785 total views,  1,000 views today