প্রশ্ন : ইসলামী ব্যংকে টাকারেখে লাভ নেওয়া যাবেনা কেন?

উত্তর :

আসলে ব্যাংকগুলোকে ইসলামী রুপ (Islamization)দেওয়া অত্যন্ত নেক ও মহৎ একটি উদ্যোগ। আমরা অবশ্যই তাদেরকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাই যদি তারা সঠিক মাসায়েল জেনে তদানুযায়ী ব্যাংক পরিচালনা করেন। এজন্য সবচেয়ে জরুরী বিষয় হল ব্যাংকের সর্বপ্রকার লেনদেন মুহাক্কিক মুফতিয়ানে কেরামের নেগরানিতে হওয়া চাই এবং প্রত্যেক ব্রাঞ্চে কমপক্ষে একজন বিজ্ঞ মুফতী থাকবেন যিনি সর্বপ্রকার লেনদেন তদারকি করবেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো পরিপূর্ণ ইসলাম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। বড় বড় ইসলামী বাক্তিও মজলিসে শূরার মধ্যে থাকলেও লেনদেন তাদের কোন কার্যকারী ভূমিকা থাকে না। বরং তারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শুধুমাত্র ব্যাংকের AGM এ পুতুল সদৃশ তাদেরেকে রাখা হয়। অথচ শুধু এতটুকু দ্বারাই ব্যাংকের ইসলামীকরন হতে পারে না।

ইসলামী ব্যাংকগুলো মূলত কয়েকটি পদ্ধতিতে অর্থায়নে (financing) আসতে পারে।
১। মুশারাকাহ
২। মুযারাবা
৩। মুরাবাহা
৪। ইজারাহ(Lease)
৫। সলম
৬। ইস্তেসনা

উপরোক্ত প্রতিটি লেনদেনের শরঈ রূপরেখা ও বিস্তারিত আহকামাত রয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে কেবল বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম অবগত। এগুলো পরিচালনার জন্য ভাসা ভাসা জ্ঞান যথেষ্ট নয়। বিশেষভাবে লেনদেন ও ব্যবসা বাণিজ্যের মাসায়েল অন্যান্য মাসায়েল থেকেও একটু জটিল হয়ে থাকে। উপরোক্ত অধিকাংশ লেনদেনের ক্ষেত্রে তারা খাতা কলমে ইসলামী ব্যাংকিং দেখালেও বাস্তবে তারা সূদী কারবার করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা অপর্যাপ্ত জনবলের অজুহাতে সূদী কারবারে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষকরে বাইয়ে মুরাবাহার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় তারা পন্যের বদলে টাকা আদান-প্রদান করে থাকে। যা স্পষ্ট সূদ। এছাড়াও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা শরীআতের শর্তাবলী রক্ষা করতে পারে না। প্রচলিত সকল ইসলামী ব্যাংকের স্বতসীদ্ধ একটি সূদী কারবার হল বাইয়ে মুরাবাহা মুয়াজ্জলাহ ( দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির ভিত্তিতে বিক্রি)। এর ক্ষেত্রে কেউ যদি কোন একটি কিস্তি (Instalment) দিতে অপারগ হয় বা দেরি করে তবে ঐ পরিমাণের বিপরীতে সময়ের অনুপাতে চার্জ বা মুনাফার নামে একটি পরিমাণ ধার্য করে দেয়। অথচ পণ্যের চুক্তি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের উপর পূর্বেই হয়ে গিয়েছে। এখন সময়ের বিপরীতে যে পরিমাণ ধার্য করা হল তা নিঃসন্দেহে সূদ।আমার জানা মতে কোন ইসলামী ব্যাংকই এক্ষেত্রে ছাড় দেয় না। আমি নিজে একবার হাউস ফাইনেন্স এর ব্যাপারে আমাদের দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকের ২টি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছিলাম। দুজনের কেউই আমাকে শরীআতসম্মত পদ্ধতিতে লেনদেনটির সমাধান দিলেন না। একজনতো বলে বসলেন হুজুর আপনারা প্রদেয় টাকার বেশি নেওয়াকেই সূদ মনে করেন যা ঠিক নয়। এরপর তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে গেলেন। আমি উঠে চলে এলাম।
সারকথা, বর্তমানে আমাদের দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো সূদমুক্ত নয়। যার কারনে তাতে ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস একাউন্ট খোলা অন্যান্য ব্যাংকের মত নাজায়েয, যতক্ষণ না তারা তাদের সার্বিক কার্যক্রম ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালনা না করে। উক্ত একাউন্টদ্বয় থেকে কারো নিকট মুনাফার নামে কোন কিছু এসে থাকলে তাও ছাওয়াবের নিয়ত ব্যতীত ছদকাহ করা ওয়াজিব। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে কারেন্ট একাউন্ট খোলা জায়েয। আমার জানা মতে আমাদের দেশের গ্রহণযোগ্য দারুল ইফতাগুলোর তাহক্কীক ও ফাতওয়া এমনই।

 820,362 total views,  14 views today