১। হালাল সমূহের মধ্য থেকে নিকৃষ্টতম হচ্ছে তালাক। কাজেই বিনা অপারগতায় তালাক না দেওয়া চাই। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২০১৮)
২। বিনা ওযরে স্বামীর নিকট তালাক না চাওয়া। ইহা অনেক বড় গোনাহের কাজ। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২২২৮; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ১১৮৭)
৩। স্বামী-স্ত্রীর বনি-বনা না হলে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে স্বামী নিম্নলিখিত ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করবে-
(ক) ছবর করবে এবং স্ত্রীকে ভালভাবে বুঝিয়ে তাকে মানসিকভাবে সংশোধন করবে।
(খ) এতে সমস্যা সমাধান না হলে তাকে সতর্ক করার জন্য এবং তার উপর নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশের জন্য একই ঘরে পৃথক বিছানায় শয়ন করবে।
(গ) আর যদি এতেও কাজ না হয় তবে তৃতীয় পর্যায়ে তাকে হালকা শাসন করবে। অর্থাৎ চেহারা ব্যতীত যে সকল স্থানে প্রহার করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই এমন স্থানে হালকা প্রহারের অনুমতি রয়েছে। যদিও এমনটি না করা উত্তম।
(ঘ) উপরোক্ত পদক্ষেপের দ্বারা সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে তো ভাল। কিন্তু এতেও যদি সমধান হয় তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পরিবার থেকে একজন করে বিবেকবান,বিচক্ষন শালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রানপন চেষ্টা করবে। সর্বশেষ তারাও যদি সমাধানে ব্যর্থ হয় তবে এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী তালাকের রাস্তা এখতিয়ার করবে। এর পূর্বে তালাক না দেওয়া চাই। (সূরা নিসা, আয়াত নং ৩৪,৩৫; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৪৮; সুনানে বাইহাক্বী, হাদীস নং ১৫১৭৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২০০১১)
৪। হায়েয, নেফাস অবস্থায় তালাক না দেওয়া। ইহা গোনাহের কাজ। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৩২; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৩৩৯৭)
৫। স্ত্রীর এমন পবিত্রতায় তালাক না দেওয়া যে পবিত্রতায় সহবাস হয়েছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৩৬; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৩৩৯৫)
৬। একসাথে তিন তালাক না দেওয়া। এটা মারাত্মক গোনাহের কাজ। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৩৪০১)
৭। তালাক দেওয়ার সুন্নাত পদ্ধতি হল-
(ক) স্ত্রী যখন হায়েয থেকে পাক হবে তখন তাকে এক তালাক দিবে। তবে শর্ত এই যে, ঐ পবিত্রতার (যে পবিত্রতাতে সে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে) মধ্যে তার সাথে সহবাস করবে না। এর পরবর্তী হায়েয থেকে তার ইদ্দত শুরু হবে। যখন তিন হয়েয পূর্ন হবে তখন বিবাহ সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যাবে। এটা তালাক দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং ১৭৭৪৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১০৯২১)
(খ) স্ত্রী হায়েয থেকে পাক হলে তাকে এক তালাক দিবে। এরপর আরেকটি হায়েয গিয়ে দ্বিতীয় পবিত্রতা এলে তখন আরেকটি তালাক দিবে। অতঃপর আবার হায়েয অতিক্রান্ত হবার পর পবিত্রতার মধ্যে তৃতীয় আরেকটি তালাক দিবে। তবে শর্ত হল এই তিন পবিত্রতার মধ্যে সহবাস করবে না।
বিঃ দ্রঃ হাসি ঠাট্টা করে বা রাগের মূহুর্তে বা নেশা জাতীয় কিছু পান করে মাতাল অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক পতিত হয়ে যায়। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৯৬; সুনানে বাইহাক্বী, হাদীস নং ১৫৫০৮)

 4 total views,  1 views today