১। বিবাহের সামর্থ্য থাকলে বিবাহ করা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করার জন্য হাদীস শরীফে কঠিন ধমকি এসেছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪৬৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৪৬)
২। সৎ ও দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী সন্ধান করা। দ্বীনদারীকেই সবকিছুর উপরে প্রাধান্য দেওয়া। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৫০৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭০৮)
২। অপর কেউ বিবাহের প্রস্তাব দিলে যতক্ষন কোন এক পক্ষের অনাগ্রহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায় ততক্ষন নতুন করে অন্য কারো জন্য প্রস্তাব না দেওয়া। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ২১৪০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫০৮)
৩। বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখে নেওয়া সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫০; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৩২৩৫)
৪। এমন পাত্রী নির্বাচন করা যে স্বামীভক্ত এবং যে বংশের মেয়েরা অধিক সন্তান প্রসবে সক্ষম। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৩২২৭; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২০৫২)
৪। বিবাহ সাদাসিধে হওয়া সুন্নাত। অযথা অপচয় ও অপব্যয় না করা। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ২৭৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪৫২৯)
৫। বিবাহ শাওয়াল মাসে, জুমাআর দিনে মসজিদে সম্পন্ন করা। তবে যে কোন মাসে, যে কোন দিনে, যে কোন স্থানে বিবাহ জায়েয আছে। (সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ১০৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৪৮; আল উরফুশ শাযী, কাশমীরী ২/৪৫৬)
৮। ব্যপক প্রচার করে বিবাহ করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬১৩০)
৯। মোহর নির্ধারন নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা। সাধ্যের মধ্যে মোহর নির্ধারন করা। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১০৮; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ১১১৪)
১০। মেয়ের নিকট কোন গায়রে মাহরামের এযেন (অনুমতি) নিতে না যাওয়া। এযেনের জন্য কোন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৩৪, ৬৯২৪; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৫৪)
১১। ঈজাব কবূলের পূর্বে বিবাহের খুতবা পড়া। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১২০; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ১১০৫)
১২। নব দম্পতিকে এই দুআ দেওয়া-
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِى خَيْرٍ
(মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ২৭৪৫; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৩২)
১৩। বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দুআ পড়া-
اللَّهُمَّ إِني أسألُكَ خَيْرَها وَخَيْرَ ما جَبَلْتَها عَلَيْهِ، وأعُوذُ بِكَ مِنْ شَرّها وَشَرِّ ما جَبَلْتَها عَلَيْهِ
(সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২১৬২; আস সুনানুল কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং ১০০৯৩)
১৪। বাসর রাতের পর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং গরীব-মিসকীনদের জন্য নিজের তাওফীক অনুযায়ী ওলীমার (খানা খাওয়ানোর) ব্যবস্থা করা। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ২০৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৫৫৬)
১৫। বরযাত্রীর প্রচলিত প্রথা সম্পূর্ন সুন্নাত পরিপন্থী। বিশেষ করে যখন মেয়ে পক্ষের এতে অসম্মতি থাকে অথবা তাদের বাধ্য করা হয় তখন সম্পূর্ন নাজায়েয। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২০৬৯৫; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৭৪৩)

 21 total views,  2 views today